Home / শিক্ষা / পরীক্ষার আলোচনায় বড় একটি জিনিস বাদ পড়ে গেছে: শিক্ষা উপমন্ত্রী

পরীক্ষার আলোচনায় বড় একটি জিনিস বাদ পড়ে গেছে: শিক্ষা উপমন্ত্রী

শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেছেন, গণমাধ্যম আজকের সংবাদে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে পরীক্ষা থাকা না থাকা নিয়ে। তবে এর আড়ালে মোটামুটি বড় একটি জিনিস চাপা পড়ে গেছে।

তিনি বলেন- সেটি হলো, প্রাথমিক পর্যায়ে প্রাক-বৃত্তিমূলক কোর্স ও বৃত্তিমূলক কিছু সাবজেক্ট ষষ্ঠ থেকে সপ্তম শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। নবম-দশম শ্রেণিতে বৃত্তিমূলক অকুপেশনাল কোর্সেস- সেগুলোর একটি অন্তত শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক হবে। যা হাতেকলমে শ্রেণিকক্ষ ভিত্তিক মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এটা কিন্তু কোনও আলোচনায় আসেনি।

মিথিলা ফারজানার এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি গণমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে কিছু কথা বলেছিলেন, সেই কথাগুলো আমার মনে হয় আরও বিস্তারিত এখানে বর্ণনা করা উচিত। আমরা আসলে একটি বিষয় মিলিয়ে ফেলছি।

মূল্যায়ন ও পরীক্ষা- দুটো কিন্তু আলাদা বিষয়। পরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যায়ন হয়। অর্থাৎ অ্যাসেসমেন্ট যেটা হয়, সেটার একটি অংশ হচ্ছে সামষ্টিক মূল্যায়ন; যেটাকে আমরা বলছি পাবলিক পরীক্ষা, ক্লাস পরীক্ষা বা সমাপনী পরীক্ষা। আরেকটি অ্যাসেসমেন্ট হচ্ছে শ্রেণিকক্ষ ভিত্তিক মূল্যায়ন, ধারাবাহিক মূল্যায়ন।

আমাদের লক্ষ্য, ধারাবাহিক মূল্যায়ন ও শ্রেণিকক্ষ ভিত্তিক মূল্যায়নকে আরও বেশি শক্তিশালী করা। স্তর-ভিত্তিক সনদায়ন অর্থাৎ ক্লাস থ্রি আমি অতিক্রম করেছি- এটার জন্য। সনদায়ন আর পরীক্ষা কিন্তু এক নয়।’

‘আসলে শিক্ষাক্রমের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে, আগে যেটা সংখ্যার বিচারে একটি লক্ষ্য ছিল; আমাদের বিস্তৃতিটাকে বাড়ানো। ২০১২ সালে আমাদের সর্বশেষ শিক্ষাক্রম নির্ধারণ করা হয়েছিল। এখন নতুন পরিস্থিতিতে বিশ্ব প্রযুক্তির

পরিবর্তন ও বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনকে মাথায় রেখে দক্ষতা নির্ভর শিক্ষাক্রম তৈরি করতে যাচ্ছি। কারণ দক্ষতা খুব গুরুত্বপূর্ণ। শুধুমাত্র স্মরণশক্তি, জ্ঞান ও পরীক্ষা নির্ভরতা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।’

তিনি বলেন, পরীক্ষা উঠে যাচ্ছে এই কথাটা যতটুকু সঠিক নয়, পরীক্ষাই থাকছে সে কথাটিও ততটুকু সঠিক নয়। আমাদের কারিকুলামটি একটি রূপরেখা। অতঃপর এটাকে টেক্সটবুকে রূপান্তরিত করতে হবে। কোর্স কন্টেন্ট বা বিষয়ের ওপর রূপান্তর করতে হবে।

বিষয়ে রূপান্তরিত করার পর সব বিষয়ে কিন্তু আমি পরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যায়ন করতে পারবো না। এখানে কোন বিষয়ের জন্য কোনভাবে মূল্যায়ন নির্ধারণ করবো- এটা ঠিক করা হবে। যেমন গণিতের ক্ষেত্রে পরীক্ষা নিতে পারি। কিন্তু ধর্ম, শরীরচর্চা পরীক্ষা ব্যতীত সামষ্টিক ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে নিতে হবে।

পাশাপাশি বাংলা ও ইংরেজির ক্ষেত্রেও যে ভাষাগত দক্ষতা; আমি যে লিখতে, পড়তে, শুনতে ও বুঝতে পারি- এটা কিন্তু শুধু পরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়। এখানে হচ্ছে, কোন বিষয়ের জন্য কোনভাবে আমরা মূল্যায়ন করবো সেটা নির্ধারণ করা হবে। এই রূপরেখাটিকে আমরা বাস্তব অর্থে বিষয়ভিত্তিক পরিপূর্ণ রূপ দেবো।’

‘চারু ও কারুকলা, সেটা কিন্তু পরীক্ষা নিয়ে সবসময় শতভাগ মূল্যায়ন করা যাবে না। তেমনি ইংরেজি মুখস্থ করে পরীক্ষা দিয়ে দিলাম, সমাপনী আর পাবলিক যা-ই বলি; এতে করে ইংরেজির দক্ষতা কিন্তু নিরূপণ করা যাবে না। সারা বছরব্যাপী শিক্ষার্থীরা যে অ্যাসাইনমেন্ট করবে এবং

তাকে যে অবজারভেশনে রাখা হবে- এখানেই একটি গুণগত পরিবর্তন সৃষ্টির সুযোগ হয়েছে। সেটা আমরা বৈশ্বিক মানের সঙ্গে মিল রাখতে চাই এবং সেটাই করতে যাচ্ছি’- যোগ করেন তিনি।

২০২৩ সাল থেকে পিইসি-জেএসসি থাকছে না, এটা চলতি বছর বা ২০২২ সাল থেকে কেন নয় এমন প্রশ্নে শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, ‘যখন একটি কারিকুলাম নির্দিষ্ট ও এর রূপরেখা করা হয়, সেটি টেক্সটবুকে রূপান্তরিত করতে হয়।

সেই টেক্সটবুক রূপান্তর করার পর সেটা ‘রুল আউট’ করতে হবে। তার আগে টিচার্স গাইড তৈরি করে তাদের সেটা আগে বুঝাতে হবে। এটা একটা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে করতে হয়। উন্নত বিশ্বে প্রতিবছরই কারিকুলাম আপডেট হয়। কারণ প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের চলতে হবে।’

Check Also

স্বপ্ন যখন ঢাবি, সতর্কতা তখন সময়ের দাবি

স্বপ্নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য চরম আগ্রহ এবং কঠিন পরীক্ষা প্রস্তুতির সাথে সতর্কতাও বেশ জরুরী— …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *